নিজস্ব প্রতিবেদক: এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) ১১ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৮ নির্মাণাধীন ভবন ও বাসা-বাড়িকে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২ অগাস্ট) দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে অঞ্চল-১ এর গ্রীন রোড ও নিউ ইস্কাটনে মাহফুজুল আলম মাসুম, অঞ্চল-২ এর মালিবাগ বাজার ও ফুলবাগ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অঞ্চল-৩ এর পশ্চিম ইসলামবাগ ও চকবাজারে তৌহিদুজ্জামান পাভেল, অঞ্চল-৫ এর ধলপুর ও গোলাপবাগে মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া, অঞ্চল-৬ এর আমুলিয়ায় শাহীন রেজা, অঞ্চল-৮ এর ডগাইরে কাজী হাফিজুল আমিন এবং অঞ্চল-১০ এর কদমতলি ও অঞ্চল-২ এর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বিকাশ বিশ্বাস এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এছাড়াও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) মধ্যে অঞ্চল-১ এর মেরীনা নাজনীন ধানমন্ডি ১, ২, ৩ ও ৪ এলাকার ৯৫টি বাড়িতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।

আনিক-৩ এর আনিক বাবর আলী মীর লালবাগে, অঞ্চল-৪ এর আনিক মো. হায়দর আলী কাজি আলাউদ্দিন রোড, নর্থ সাউথ রোড ও রায় সাহেব বাজারে এবং অঞ্চল-৭ এর আনিক ড. মোহাম্মদ মাহে আলম দক্ষিণ মন্ডা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

নাগরিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত লালবাগস্থ পাস্তা কাবাবে এডিশ মশার লার্ভা পাওয়ায় আনিক-৩ বাবর আলী মীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতসমূহ এ সময় ৪১৪টি নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন এবং মোট ২৯টি নির্মাণাধীন ভবন ও বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৯টি মামলা দায়ের ও সর্বমোট ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়াও এ সময় এডিস মশার লার্ভা প্রজনন উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করায় মোট ৩৫টি বাসা ও নির্মাণাধীন ভবনকে সতর্ক করা হয়।

এডিসের লার্ভা বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটির চালু করা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সম্পর্কিত তথ্যাদি-

  • আজ সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ভবনে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণ বিতরণ করে নগর ভবনে ফেরার পর হঠাৎ করেই অনির্ধারিতভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং উৎস নিধন করার লক্ষ্যে দক্ষিণ সিটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করেন। আনুমানিক ১০.৪২টায় তিনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর সকাল থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আসা তথ্যের সংখ্যা জানতে চাইলে সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তাগণ বলেন – ১২টি। তখন মেয়র সেই তালিকা নিয়ে প্রথমে ২৫ নং ওয়ার্ডের মোঃ আনোয়ার ইকবাল সন্টুকে ফোন করেন এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাস্তা ক্লাব নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা জন্য নির্দেশনা দেন।
  • তারপর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. এনামুল হককে ফোন দেন এবং তাকে মিন্টু রোডস্থ যে বাসাগুলোতে এডিস লার্ভা রয়েছে বলে তথ্য এসছে সেখানে যেতে বলেন। এরপর তিনি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো মামুন রশিদ শুভ্রকে ফোন দেয় এবং প্রদত্ত ঠিকানা অনুষ্ঠান পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
    তারপর মেয়র অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রতিটি অভিযোগের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
    তৎপরবর্তী ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফেসবুক লাইভে এসে সেসব জায়গায় মশার লার্ভা প্রাপ্ত হন বলে জানান। কয়েকটি অভিযানে মশার লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে।
  • নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আজ মোট ৩৪টি উৎসের তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটির জনগণ। দুপুর ২টার আগে প্রাপ্ত ২৪টি তথ্যের সবগুলো আজকেই সমাধান করা হয়েছে। বাকী ১০টি দুপুর ২টার পর প্রাপ্ত হওয়ায় সেগুলোতে আগামীকাল অভিযান পরিচালনা করা হবে।
  • প্রাপ্ত সেসব তথ্যের ভিতিত্তে কাউন্সিলর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে যথাক্রমে পরিদর্শনের পর লার্ভার উৎস ধ্বংস এবং অভিযান পরিচালনার লার্ভার উৎস ধ্বংস ও জরিমানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *