নিউজরুম ৭১॥ তাহসান-মিথিলার ‘শনিবার সারপ্রাইজ’ রহস্যের জট খুলেছিল শনিবারই। সেটি হলো- বিচ্ছেদের পর এবারই প্রথম মুখোমুখি হলেন এই দুই তারকা। কথা বললেন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে।

রহস্য উন্মোচনের পরেও যে রহস্য থেকেই গিয়েছিল। সংসার জীবন বিচ্ছেদের লম্বা বিরতির পর নতুনকরে দু’জনে মুখোমুখি বসে কী আলাপ করবেন? এমন কৌতূহল ছিল ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে। আর সেই কৌতূহলও মিটিয়ে দিলেন তারা।

ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচারে শনিবার মুখোমুখি হলেন তাহসান-মিথিলা। জানালেন সেই সারপ্রাইজের বিষয়ে।

তাহসান বললেন, সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বুলিংয়ের শিকার হন তারা সে বিষয়ে কথা বলতে এসেছেন। ফেসবুকে বাজে মন্তব্য ও বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন মিথিলা। তাদের বিচ্ছেদ ও বর্তমান জীবনের প্রসঙ্গ টেনে এনে নেতিবাচক মন্তব্য করেন অনেকে। অবশ্য ভক্ত-অনুরাগীরা কখনোই এসব করেন না বলেও জানান তাহসান।

লাইভে তাহসানের মুখোমুখি হয়ে মিথিলা বলেন, এখানে আমি কিছু ভালো বিষয় প্রমোট করতে এসেছি। অনুরোধ করবো, আমরা খারাপ কিছু বলবো না। খারাপ কিছু শুনবোও না। আমাদের ভেতরে পজিটিভিটির চর্চা করা খুব দরকার।

মিথিলার এমন বক্তব্যের পর তাহসান বলেন, আমি যখন স্ট্যাটাস দিলাম যে, একটা সারপ্রাইজ আছে। মিথিলাও রিপ্লাই দিল। তখন চারিদিক থেকে মন্তব্যের ঝড়। আমি ভাগ্যবান, আমার পেজে অনেক ভালো ভালো মন্তব্য আসে। কিন্তু তার মাঝেও প্রতিনিয়ত প্রত্যেক স্ট্যাটাসে ওকে (মিথিলা) নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য থাকে। আমার ভক্ত-শুভাকাঙ্খীরা তারা ভালো মন্তব্য করেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন তারা প্রতিনিয়ত নেতিবাচক মন্তব্য ছড়াতে ভালোবাসেন। এখনও প্রতিনিয়ত আমার পোস্টে তাকে (মিথিলা) বুলি করা হয়। চঞ্চল চৌধুরীর মতো একজন গুণী শিল্পী তার মাকে নিয়ে পোস্ট করেছেন সেখানেও কত নেতিবাচক মন্তব্যের ছড়াছড়ি।

তিনি বলেন, এটা শুধু আমার বা মিথিলার বা চঞ্চলের পেজে না যে কোনো ব্র্যান্ড, যে কোনো সম্মানিত মানুষের বেলায় ঘটছে। বিষয়টা মানসিক ব্যধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা যারা সেলিব্রেটি তারা এ নিয়ে কথা না বললে প্রজন্ম বুঝবে না যে, কাউকে নিয়ে গালাগালি করা, কটূ কথা বলা এর মাঝে বীরত্ব নেই। এটা নিয়ে আমাদেরই কথা বলতে হবে। আর এই সুযোগটা আজকে আছে। এই লাইভের মাধ্যমে আমরা একটা সারপ্রাইজ গিফট তো দিচ্ছি। কিন্তু আরেকটা সারপ্রাইজ হচ্ছে, আমরা যে বার্তা দিচ্ছি- আমরা (তাহসান -মিথিলা) আলাদা হয়ে গেছি, কিন্ত আমরা সম্মানে পাশাপাশি বসে কথা বলতে পারি। একে অপরকে কটূ কথা না বলে সম্মানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি। এটা থেকেই যেন পরবর্তী প্রজন্ম শিখতে পারে যে, কারো সঙ্গে তোমার মতের মিল না থাকলেও তার সঙ্গে বসে সম্মানের সহিত কথা বলা যায়। আমার কথা সহজ যে, পৃথিবীতে নেতিবাচক অনেক কিছু আছে, সেগুলো বাদ দিয়ে ইতিবাচক চর্চা করতে হবে। এটাই হচ্ছে সারপ্রাইজ।

লাইভ অনুষ্ঠানটির বিষয়ে এর আগে শনিবার ইভ্যালির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আরিফ আর হোসেন জানিয়েছিলেন, তাহসানের পর ইভ্যালির দ্বিতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে যাচ্ছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। সেই উপলক্ষে এই আয়োজন। এর আগে বুধবার মধ্যরাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঝড় তুলেছিলেন তাহসান। তাহসান তার ভেরিফায়েড পেজে লেখেন, ‘এই শনিবার রাতে তোমার জন্য একটি সারপ্রাইজ রয়েছে।’ তাহসানের এই পোস্টের জবাবে পাল্টা পোস্ট করেন মিথিলা। লেখেন, রিয়েলি!!? সারপ্রাইজের অপেক্ষায় রইলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *