নিউজরুম ৭১॥ আমরা যে লড়াই করছি, যুদ্ধ করছি তা একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতেও আমরা পেরেছি। আমরা একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই দেশেই বিজয়ী হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই এদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবো। আমাদের বিজয়ী হতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এই কথা বলেন। মির্জা ফখরুল জানান, ১২শ’র বেশি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। গুলশানে সীমিত পরিসরে কিছু পরিবারের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হলো। ঢাকাসহ দেশে বাকি যে পরিবারগুলো রয়েছে তাঁদের বাড়ি বাড়ি এসব উপহার পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা আমাদের থেকে হারিয়ে গেছে, যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করতে পারবো না। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের অধিকারগুলো এই আওয়ামী লীগ দানবীয় ও ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কেড়ে নিয়েছে। সেই শক্তিকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এজন্যই এতো ত্যাগ, এতো অশ্রু, এতো ব্যথা, এতো বেদনা।

তিনি অভিযোগ করেন, আমরা প্রতিবছর যখন আপনাদের সামনে উপস্থিত হই তখন আমাদের অপরাধী মনে হয়। কারণ আমরা এখন পর্যন্ত এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারি নাই। এই একটি ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শক্তি আমাদের অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়ে একটি দানবীয় শক্তি হয়ে আমাদের উপর তাণ্ডব চালাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সরকার আসার পর আমাদের ৬০১ জন নেতাকর্মী গুম হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৮১৭ জন। এর জবাব এই সরকারকেই দিতে হবে, জবাবদিহিতা আওয়ামী লীগকে করতে হবে। পরিবারের কাছে, জাতির কাছে জবাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে দেখেছি, যে সরকার জোর করে টিকে থাকে তাকে এধরনের কৌশল নিতে হয়। জনগণের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকে না। যেহেতু জনগণের সাথে সম্পর্ক থাকে না তাই তারা হত্যা-গুম নির্যাতন করে টিকে থাকে। বহু আগে থেকেই তারা একনায়কতান্ত্রিক-স্বৈরাচারী আচরণ করে আসছে।

ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি এই রমজানে বিভিন্ন হোটেলে আপনাদের সাথে ইফতার করতেন। তাঁর জন্য সকলেই দোয়া করি। তাঁকে যেনো আল্লাহ সুস্থ করে দেন। আমাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া করি। মিথ্যা মামলায় তিনি ১৪ বছর ধরে নির্বাসিত। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বিএনপি সংগ্রাম করছে মানুষের জন্য।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বকে গ্রাস করছে। এই সরকারের জনগণের কাছে জবাব দিতে হয় না, তাই তারা কোভিডকে নিয়ে ব্যবসা করছে। মানুষ হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরছে, চিকিৎসা পাচ্ছে না। জনগণ আইসিইউ পাচ্ছে না। দেড় বছর ধরে এই অবস্থা। তারা আছে কিভাবে টাকা বানানো যাবে, দুর্নীতি করা যাবে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন আনা নিয়ে ভুল নীতিতে ছিলো সরকার। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে একটি দেশের থেকে ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম একটা সোর্স থেকে যেন ভ্যাকসিন আনা না হয়। চীন, রাশিয়াকে বিকল্প উৎস হিসেবে নিতে। কিন্তু তারা তা করেনি। এতোদিন পরে তারা চীন-রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করছে। এদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। যদি না পারি তাহলে দেশ শেষ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *