নিউজরুম ৭১॥ উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঠে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন মামুনুল। এছাড়া তাবলীগের সাদপন্থীদের মারধরের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। জোশের কারণে ওয়াজ মাহফিলের বক্তৃতায় বিশিষ্ট নাগরিকদের মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন মামুনুল।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি’র সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নাশকতার ঘটনায় হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চাইবেন তারা।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশে দায়ের হওয়া ২৩ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। এই মামলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫টি, কিশোরগঞ্জের ২টি, চট্টগ্রামের ২টি এবং মুন্সীগঞ্জের ২টি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় ৫টি মামলা এবং চলতি বছরে ১৮টি মামলা হয়েছে।

সিআইডি’র প্রধান বলেন, আমরা এসব মামলায় প্রাথমিক তদন্তে তিন ধরনের লোকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি, যারা উপস্থিত ছিলেন, অনুপস্থিত থাকলেও ইন্ধন দিয়েছে আর যারা সরাসরি হামলা ও নাশকতায় জড়িয়েছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

এসব মামলায় মামুনুল হকের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে নারায়ণগঞ্জের মামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যেহেতু তিনি একটি মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। তাই এটি শেষ হলে আমরা ওই মামলায় তাঁকে রিমান্ডে আনবো। তবে যদি অন্য কোনো মামলাতেও তাঁর ইনভলভমেন্ট থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য অন্যান্য মামলাগুলোও আমরা স্টাডি করছি।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ফরেনসিক, ডিএনএ, অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছে, সাইবার সাপোর্টও রয়েছে। যারা অগ্নিসংযোগ করেছে, হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় যারা উপস্থিত ছিলো, মদদ দিয়েছে, উসকানি দিয়েছে, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাঁদের ফুটেজ ফরেনসিক করা হবে। ফরেনসিক করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাঁদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনবো। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *