নিউজরুম ৭১॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক আর নেই। আজ ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে শিল্পী-সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। কেরানীগঞ্জের বড় মনোহারিয়া আটিতে বাবা-মার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। মিতা হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিতা হক পাঁচ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিয়ে ভালোও ছিলেন তিনি। কিন্তু স¤প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। ভর্তি করা হয় রাজধানীর একটি হাসপাতালে। চার দিন আগে করোনা নেগেটিভ হলে বাসায় নেওয়া হয়। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার তাঁকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন খ্যাতিমান এই সংগীতশিল্পী।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সংগীতাঙ্গনে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মিতা হকের কফিন বেলা ১১টায় নেওয়া হয় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে। গুণি এই শিল্পীর চলে যাওয়া অপুরণীয় ক্ষতি বলে জানান শুভানুধ্যায়ীরা। 

মিতা হক ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলায় চাচা ওয়াহিদুল হকের কাছ থেকে গান শেখার হাতে খড়ি। পরে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও সনজীদা খাতুনের কাছে গান শিখেন। 

১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশনা করেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে। ১৯৯০ সালে মিতা হকের প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ‘আমার মন মানে না’।

তাঁর একক কন্ঠে অ্যালবাম বেরিয়েছে ২৪টি। এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ থেকে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি রবীন্দ্রসংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিতা হক। 

সঙ্গীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তাকে একুশে পদক প্রদান করে সরকার। এছাড়া শিল্পকলা পদক, বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেছেন। ছায়ানটের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান মিতা রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সহ সভাপতি ছিলেন। সুরতীর্থ নামে একটি সঙ্গীত প্রশিক্ষণ দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মিতা হক তার গানের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন রবিন্দ্রসংগীত গবেষক ও সংগীতপ্রেমী মানুষের মনে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *