নিউজরুম ৭১॥ সাঁতারে শেষ দিন হয়েছে আরও একটি জাতীয় রেকর্ড। জুয়েল আহমেদ চার ও সোনিয়া আক্তার ছয় স্বর্ণ জিতে সেরা সাঁতারু। শ্রেষ্ঠত্ব নৌবাহিনীর। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনা। বেশিরভাগ জেলায় নেই সুইমিং পুল। পুকুরে সাঁতার কেটে ব্যর্থ হচ্ছে বড় মঞ্চে পাল্লা দিতে।

২০১৬, রিও অলিম্পিকে সবাইকে চমকে দেন সিঙ্গাপুরের জোসেফ স্কুলিং। তার ডানার স্রোতে হারিয়ে যান ছোটবেলার নায়ক মাইকেল ফেলপস। দ্বীপদেশটির প্রথম স্বর্ণ জয়। হতে পারে একমাত্র স্বর্ণ জয়, কিন্তু এই অর্জনের মর্ম তারাই বুঝে যাদের প্রাপ্তির খাতায় পুরোটা শূন্য।

নদীমাতৃক বাংলাদেশ এখনো গ্রামে গঞ্জে গায়ে কাদামাটি মাখা শিশু-কিশোর ঝাঁপিয়ে বেড়ায় খালে, বিলে, পুকুরে। নদ-নদীর বাংলাদেশের কাছে অন্তত একটি অলিম্পিক পদক আশা করা যায় না? যায় তো বটেই তবে একজন সাঁতারুকে সুইমিং পুলে পাল্লা দেয়ার আগে জানতে হয় হরেকরকম কৌশল। অপ্রিয় হলেও সত্য সুইমিংপুল ব্যবহারের নিয়মটাই জানা নেই বেশিরভাগ সাঁতারুর।

চলতি বাংলাদেশ গেমসে নজর রাখলে সেটা আরো স্পষ্ট। আসরের সবচেয়ে বেশি ৪২ স্বর্ণ পদকের লড়াই জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে। যেখানে কেবল সার্ভিস দলগুলোর দাপট। সেনা কিংবা নৌবাহিনীর বিপরীতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অংশ নেয়া সাঁতারুদের সাফল্য নগণ্য। নেই বললেই চলে। ব্যর্থতার কারণগুলো তাদের কাছেই জানা যাক।

তবে এই দায় কার? ফেডারেশনের দাবি সাঁতারে ভালো কিছু প্রত্যাশা করলে দরকার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা।

সত্যিকার অর্থে অলিম্পিক বড্ড দূর, আগে অবসান হোক বাংলাদেশ গেমসের একপেশে লড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *