নিউজরুম ৭১॥ রোহিঙ্গা ইস্যুতে এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কি একটি নয়া যুদ্ধের গিনিপিগ রাষ্ট্র হতে পারে ? মায়ানমারের সংগে বাংলাদেশের ইয়েমেন টাইপের যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফায়দা লুটতে চায় কারা? এবং কেন এই যুদ্ধের পরিকল্পনা?

গত ১৮ নভেম্বর জাতিসংঘে ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। রেজুলেশনটির পক্ষে ভোট দেয় ১৩২ দেশ, বিপক্ষে ভোট দেয় ৯টি দেশ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয় চীন, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, জিম্বাবুয়ে ও বেলারুশ।সেইসাথে দক্ষিণ এশিয়ার ভোট না দেওয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাসহ মোট ২৬টি দেশ। লক্ষ্যনীয় বিষয় ভারত সরকার সবসময়ে এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে আছে দাবী করিলেও এই ভোটাভুটিতে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দানে বিরত থাকে।

ভারতসহ দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলি বাংলাদেশেকে সাপোর্ট না দেওয়ার কারন কি হতে পারে? কারন হলো ঐ দেশগুলির বাংলাদেশ উন্নয়নের জোর প্রতিদ্বন্দ্বি। ভারতসহ এই দেশগুলি বাংলাদেশের উন্নয়নকে মোটেই ভাল চোখে দেখছে না। আবার চীন, রাশিয়া মায়ানমারের পক্ষে কেন? শুধুই কি ব্যবসায়িক কারনে? নাকি মায়ানমারের সংগে বাংলাদেশের ইয়েমেন টাইপের একটা যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিলে ভারত-চীন-রাশিয়া উভয় দেশের কাছে মোটা অংকের অস্ত্র বিক্রি করিতে পারবে এবং এশিয়ায় আমেরিকার অবস্থানও পরিস্কার করতে সক্ষম হবে। চীন- রাশিয়া চায়না এশিয়ায় আমেরিকা আধিপত্য বিস্তার করুক। সেটা টেস্টের জন্য একটা যুদ্ধের প্রয়োজন। তবে মজার বিষয় হলো আমেরিকা, যুক্তরাস্ট্র, বৃটেন ফ্রান্সসহ পাশ্চত্য সব দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর কারন কি হতে পারে?

এখন আসি অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিরোধী দল বিএনপির রুগ্ন নেতৃত্বের শুন্যতা কি মৌলবাদি দলগুলি দখল করে নিবে? কোন সমীকরনে বা কার অর্থে এবং পৃষ্টপোষকতায় হঠাৎ করে মৌলবাদিরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এদের ইন্দনদাতা বা অর্থদাতা কি ভারত-চীন হতে পারে? এই মুহুর্ত বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়লে ভারতের বিশাল লাভ, রাশিয়া, চীন পাবে অস্ত্র বিক্রির অর্থ এবং দেশের ব্যবসা আর এশিয়া আমেরিকার ক্ষমতাও মাপা হয়ে যাবে। এসব সমীকরনে নিশ্চয় শেখের বেটি শেখ হাসিনা অবগত। তিনি মায়ানমারের যুদ্ধের উস্কানীর ফাঁদে কি পা দিবেন? আর মায়ানমারও কি চাইবে যুদ্ধে জড়াতে? এসব সমীকরনের সন্মুখে এখন বাংলাদেশ।উন্নয়ন-ই এখন বাংলাদেশে অন্যদের চোখের কাঁটা। দেশপ্রেমিক জনগনই সব চক্রান্ত প্রতিহত করবে ইনশাল্লাহ।

শেখ সাইফুজ্জামান

প্রবাসী লেখক, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *