নিউজরুম ৭১॥ কুটির ও ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে নিজস্ব পুঁজিতে ব্যবসা করলেও বাস্তবতা হল, করোনার কারণে তাদের পুঁজি সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই ব্যাংকের কাছে ঋণ প্রত্যাশী। প্রণোদনার ঋণ অনেকেরই খুব উপকারে আসছে। কিন্তু প্রণোদনার ঋণ ছাড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনীহা দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অবশ্য এটাও সত্য, অধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আর্থিক কোনো সম্পর্ক না থাকায় উদ্যোক্তা বাছাই করতে গিয়ে তারা এক ধরনের জটিলতার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ঋণ প্রদানের পর তা যাতে ফেরত আসে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে।

এছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনায় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় উদ্যোক্তাদের টাকা আটকে যাবে এবং তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না। বস্তুত, এসব বিবেচনায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি বটে; তারপরও আমরা মনে করি, ঝুঁকি নিয়ে হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছানো জরুরি। তা না হলে অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে না।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মূলত তিন কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার ঋণ ছাড়ে অনীহা দেখাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঝুঁকিমুক্ত উদ্যোক্তা বাছাইয়ে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার অভাব এবং নতুনদের ঋণ দানে অনাগ্রহ; করোনার প্রভাব থেকে কতদিনে অর্থনীতি স্বাভাবিক হবে- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব এবং প্রণোদনার অর্থ ফেরত না এলে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

ফলে তারা প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করে ঝুঁকির মাত্রা বাড়াতে চাচ্ছে না। এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই খেলাপি ঋণভারে জর্জরিত। ব্যাংকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশের বেশি থাকলেই তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কম থাকলে এ সংকটকালে তারা কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারত। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত, প্রণোদনার ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে সাহস জোগানোর পাশাপাশি তদারকি আরও জোরদার করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *