নিউজরুম ৭১॥ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রথম মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার পর তা দ্রুত বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১৮ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে এ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সারা বিশ্বে ১ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর কেন্দ্রস্থল এখন নিউইয়র্কে চলে গেলেও এটি যুক্তরাজ্য ও স্পেনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে এবং ইতালি, ফ্রান্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

যদিও উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধীরগতিতে দেখা গেছে এবং তা সম্ভবত পরীক্ষা ও রিপোর্টের অপ্রতুলতার কারণে হয়েছে। কিন্তু মহামারীটি কোথাও এড়ানো যায়নি এবং এটি বিশ্বের দরিদ্র মানুষ, বিশেষত বস্তি ও শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারীদের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি আর্থসামাজিক প্রভাব পড়বে, যেমনটি সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, এটি শুধু স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় নয়; এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। আনুমানিক বৈশ্বিক জিডিপির কমপক্ষে ১০ শতাংশ সমন্বিত আন্তর্জাতিক সাহায্যের পাশাপাশি জাতীয় সংহতি ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক পতন, মানবাধিকারসহ সামাজিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।

আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া

এশিয়া ও আফ্রিকার বিরাট একটি অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে ভাইরাসটিকে চীন থেকে পশ্চিম ইউরোপে ও যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে যেতে দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলো ভ্রান্ত আশায় ভুগছিল বলে মনে হয়। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশগুলোয় যখন ভাইরাসটির মারাত্মক প্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তখন উন্নয়নশীল দেশগুলো আতঙ্কিত হয়ে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

দুর্ভাগ্যক্রমে বেশির ভাগ সরকার তাদের দেশের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সম্পদ, জনসংখ্যা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ছাড়াও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারকে অবশ্যই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে, কারণ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রমিত হয়। তবে নীতিনির্ধারকদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা দরকার, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোয়। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক খাতে প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র ও দুর্বল মানুষের ওপর এর প্রভাব হ্রাস করতে অর্থনীতিকে চলমান রাখতে হবে।

লকডাউন কি জরুরি?

কিছু পরিস্থিতিতে যেমন উহান ও যুক্তরাজ্যে প্রাথমিক ‘হার্ড ইমিউনিটি’ নীতির কারণে ‘মৃদু অবহেলা’র ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার পরে পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে লকডাউন একটি অনিবার্য পদ্ধতি হতে পারে, যেহেতু এটি সংক্রমণ ধীরগতি করে দেয়।

লকডাউন প্রথম পর্যায়ে অকার্যকর না হলে প্রাথমিকভাবে লকডাউনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার কার্যকারিতা হ্রাস পায়। বস্তি ও গ্রামগুলোয় একটা ঘরে সাধারণত তিন থেকে পাঁচজন লোক থাকে, একটা পায়খানা ব্যবহার করে, বাসন ও তোয়ালে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। তাই এ পরিস্থিতিতে আইসোলেশন কার্যত অসম্ভব। এমনকি হাত ধোয়ার মতো পরিষ্কার পানির ব্যবস্থাও আমাদের এখানে নেই।

লকডাউন একটি স্থূল পদ্ধতি, যার প্রভাব খুবই সীমিত। অবশ্য পূর্ব এশীয় দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে কম ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে এটি কার্যকর করা যেতে পারে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লকডাউন কার্যকরের লক্ষ্যে প্রায়ই কঠোর ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং লকডাউন পিরিয়ডকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অপ্রতুল মনোযোগের কারণে লকডাউনের উপকরণগুলো নিজে নিজেই শেষ হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে লকডাউনের উদ্দেশ্য ভাইরাস প্রতিরোধ, ভাইরাস কেরিয়ার নয়।

লকডাউন বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করে এবং এর স্থায়ী বিরূপ প্রভাব রয়েছে। যেমন সরবরাহশৃঙ্খল ব্যাহত করে জাতীয়ভাবে এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে, যার ওপর অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি নির্ভর করছে, বিশেষত সাম্প্রতিক দশকগুলোয়। গত তিন থেকে চার দশক তাদেরকে রফতানির জন্য উৎপাদনের উৎসাহ ও সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষত আফ্রিকা তাদের খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য জাতীয়ভাবে উৎপাদন করে না। তারা আমদানি করা ভোগ্যপণ্য, উৎপাদন সরঞ্জাম ও উপকরণের ওপর নির্ভর করে।

লকডাউনের বিরূপ প্রভাব

লকডাউন কীভাবে অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলবে, সে সম্পর্কে সরকারকে সাবধানতার সঙ্গে চিন্তা করতে হবে। দরিদ্র লোকজন, বিশেষত বেকার, দিনমজুর ও স্বনিযুক্ত লোকজন অর্থনৈতিক লকডাউনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলতে সক্ষম হবে না। এমনকি আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মতো প্রতিবাদও করতে পারে। বস্তিতে বসবাসকারী মানুষগুলোর জন্য লকডাউনের অর্থ হতে পারে নভেল করোনাভাইরাস বা ক্ষুধার কারণে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু।

নির্দিষ্ট কিছু পেশা, যেমন কৃষি খামারগুলোয় শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি পালন করা যেতে পারে। তবে খামারের উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি হ্রাস করতে উত্পন্ন পণ্য সংগ্রহ, সঞ্চয় এবং পরিবহন প্রয়োজন। ফসল কাটার মৌসুমে গ্রামীণ অঞ্চলে লকডাউনের অর্থ হতে পারে ফসলের ক্ষতি এবং সারা বছর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা।

সমাজের আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সুস্পষ্ট বোধগম্যতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় লোকদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর কার্যকর মাধ্যম ছাড়া সরকারি পদক্ষেপগুলো জনসাধারণ বা সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

কেরালার অভিজ্ঞতা

ভারতের কেরালায় নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল বছরের শুরুতেই। কিন্তু সেখানে কেবল শারীরিক দূরত্ব ও সাবধানতা অবলম্বন করে, বিশেষত স্যানিটারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভাইরাসের বিস্তার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। তারা এটি করেছে ভারত সরকারের বিপর্যয়কর ও কঠোর লকডাউনের আগেই।

কেরালার পদক্ষেপের মূল বৈশিষ্ট্য

সমাজের সামগ্রিক প্রতিরোধ: সঠিক পদ্ধতি খুঁজে বের করা, ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে উপযুক্ত করণীয় এবং কীভাবে তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা যাবে সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক সামাজিক পরামর্শকরণ।

সরকারি পদ্ধতি: বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য ধারাবাহিকতা, ভালো সমন্বয় এবং কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা।

বাদ যাবে না কেউ: সমাজের দুর্বল মানুষদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষত খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।

সামাজিক সংহতি: সম্প্রদায়গুলোকে মহামারীসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহকরণ, যাতে সাধারণ লোক বুঝতে পারে, আতঙ্কিত না হয় এবং স্বাস্থ্যগত ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক বিষয় অনুসরণ করে।

কেরালার দৃষ্টিভঙ্গি দারুণ আস্থা অর্জন করেছে এবং এটি কম ক্ষতিকর, কম ব্যয়বহুল এবং অধিক কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কেরালায় চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৪৬ জন মারা গেছেন মাত্র তিনজন।

পূর্ব এশিয়া থেকে শিক্ষা

এমনকি চীনেও লকডাউন পুরো দেশব্যাপী ছিল না। চান্দ্র নববর্ষের দুই সপ্তাহ পরে এ মৌসুমে স্বাভাবিক সপ্তাহের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সীমিত করা হয়েছিল।

কিন্তু উহানের অভিজ্ঞতা থেকে বিভ্রান্তিকরভাবে সাধারণীকরণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। লকডাউন মূলত হুবেই ও উহানের আশেপাশের দুটি প্রদেশে ছিল, যেখানে ভাইরাস মহামারী আকারে পৌঁছেছিল। দেশের অন্যান্য অংশে লকডাউন ছিল না। এটিকে দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় হিসেবে দেখা হয়েছিল।

আমাদের অন্যান্য পূর্ব এশীয় দেশ থেকেও শেখা উচিত। কারণ তাদের অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের আরো কাজে আসতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে সফলদের মধ্যে রয়েছে, যদিও তারা লকডাউন চাপিয়ে দেয়নি।

শনাক্তকরণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা

কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে সংক্রমিত ব্যক্তিদের এবং সংক্রমণের সন্দেহজনক লক্ষণযুক্ত অন্যদের সংস্পর্শে আসা লোকদের শনাক্ত করতে হবে, তাদের তাত্ক্ষণিকভাবে আলাদা করতে হবে এবং সংক্রমিতদের চিকিৎসা দিতে হবে। সরকারি কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সাধারণত ‘বক্ররেখাকে সমতল করা’, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চিকিৎসা দিতে পারে এবং সংক্রমিতদের চিকিৎসা করতে গিয়ে টিকে থাকতে পারে।

আক্রান্তের লক্ষণহীন মানুষ ভাইরাসটি ছড়ানোর জন্য বেশি ভূমিকা পালন করছে। তাই আপাতত লক্ষণবিহীন লোকগুলোকে চিহ্নিত করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোরিয়ার সাফল্যের কারণ গণপরীক্ষণ। গণপরীক্ষণ সংক্রমণের শৃঙ্খল চিহ্নিত করে এবং তা ভেঙে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে সহায়তা করে।

পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল, তবে লকডাউনের কারণে যে ক্ষতি হয়, তার চেয়ে কম ব্যয়বহুল।

বিজ্ঞানীরা সস্তা বিকল্প উদ্ভাবনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, যেমন বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সংকট থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টাও করছে। যেমন সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থাই সম্ভাব্য গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রমাণের জন্য নিজস্ব পণ্য ও পরিষেবাদি প্রচার করছে। কিছু সরকার ও সংস্থা গিলিয়েডের রেমডেসিভারের মতো উপকারী ওষুধের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ লাভের চেষ্টা করছে।

শারীরিক দূরত্ব, সামাজিক সংহতি

বিকল্প পদক্ষেপগুলো কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘শারীরিক দূরত্ব’ ও অন্যান্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারে। মানুষকে দীর্ঘকালীনভাবে এভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ এটি হলো ‘নতুন স্বাভাবিকতা’, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেককে টিকা দেয়ার সামর্থ্য অর্জন করি।

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ‘সামাজিক উদ্যোগ’ বাস্তবায়নের জন্য ‘সরকারি উদ্যোগ’-এর কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। কেবল পুরো সমাজের সচেতনতামূলক প্রচেষ্টাই এ বিপর্যয় ও তার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে সক্ষম।

এতে শুধু জনস্বাস্থ্য ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকেই জড়িত করা উচিত নয়, যারা সাধারণত লকডাউন চেষ্টায় জড়িত, জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই হুমকির বিষয়ে এবং কেন নির্দিষ্ট নীতিমালার পদক্ষেপ দরকার, সে সম্পর্কে আরো ভালো ও জনপ্রিয় ধারণা দিতে হবে। জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা এবং বোঝার বিষয়টি নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লকডাউনের কারণে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হ্রাস করার জন্য মানবসম্পদ, পরিবহন, শিক্ষা, মিডিয়া ও অন্য সামাজিক নেতাদের জরুরিভাবে একত্রে কাজ করা দরকার। আরো জরুরি বিষয় হলো, যখন এই লকডাউন শেষ হবে তখন আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করা।

এ সময়টি আসলেই আলাদা

এই সংকট আগের সংকটগুলোর মতো নয়। আমরা খুব শিগগিরই স্থিতাবস্থায় ফিরে আসার আশা করতে পারি না, যতক্ষণ না কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয় এবং তা সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। এজন্য বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।

যাই হোক না কেন, কেউই গুরুত্বসহকারে বিশ্বাস করে না যে সমাজের এই বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে দ্রুত পুরোপুরি রিকভারি করা সম্ভব। এতে সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক, জাতীয়, আঞ্চলিক এমনকি স্থানীয় পর্যায়েও।

ব্যবসা ও শিল্প চালিয়ে যেতে, কর্মচারীদের ধরে রাখতে এবং ভোক্তাব্যয় বজায় রাখতে সরকারের আর্থিক প্রণোদনা দরকার। সুতরাং ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি, বেনামি, অপরিচিত আর্থিক বাজারগুলোকে খুশি করার জন্য এবং সরকারের বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটা অর্থনৈতিকভাবে রক্ষণশীল হওয়ার সময় নয়।

‘নতুন স্বাভাবিক’ ‘যথারীতি ব্যবসা’ হতে পারে না

সরকার ও নাগরিক সমাজের নেতাদের অবশ্যই লকডাউন পিরিয়ডের পরে জনগণকে ‘নতুন স্বাভাবিকের’ জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সেখানে ‘যথারীতি ব্যবসা’র কোনো স্থান নেই।

জীবন, অর্থনীতি ও সমাজ পুনর্গঠনের জন্য আমাদের নতুন উপায়গুলোর কথা ভাবতে হবে, যাতে মানুষ সুস্থতার সঙ্গে পূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। শারীরিক দূরত্ব, স্যানিটারিসহ অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দরকার হবে যতক্ষণ না কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয় এবং সবার জন্য সুলভ হয়।

মাস্ক পরা জাতীয় নীতি হিসেবে উৎসাহিত করতে হবে। এমনকি ঘরে তৈরি মুখাবরণগুলো কিছুটা সুরক্ষা দেয়, বিশেষত যখন লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া নভেল করোনাভাইরাসযুক্ত অনেক লোক একত্র হয় বা সামাজিক কাজকর্মে অংশ নেয়। তাদের মুখ ও নাক থেকে নির্গত ড্রপলেট অন্যদের জন্য সংক্রামক হতে পারে।

কিছু শিল্প ও কর্মসংস্থানের ডিজিটালাইজেশন ও ডিজিটাল রূপান্তরের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তাই কর্মীদের দূর থেকে কাজ করতে সক্ষম করার জন্য বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে পারে। শারীরিক যোগাযোগ, এমনকি নৈকট্য ও জনসমাগম কমাতে লোকজনকে সামাজিক জীবনও পরিবর্তন করতে হবে।

ড. আনিস চৌধুরী: অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর

ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (অস্ট্রেলিয়া), নিউইয়র্ক ও ব্যাংককে জাতিসংঘের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *