শরীফুল ইসলাম,কুষ্টিয়া, নিউজরুম ৭১॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসন আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী আসন। এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা এখনও তেমন চোখে পড়ার মত না হলেও মনোনয়ন পেতে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীরা কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ আসনে নৌকার প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর এক তরফার নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রোজাউল হক চৌধুরীর কাছে আনারস প্রতীকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হোন। সেই থেকে এ আসনে নৌকার প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ হয়ে দুই মেরুতে বিভক্ত দলের নেতা-কর্মীরা।

আর বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য রেজা অহমেদ বাচ্চু মোল্লাসহ দলের প্রায় সব নেতা-কর্মী গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে। আবার মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতেও রয়েছেন। যারা আছেন তারও রাতে বাড়িতে ঘুমাাতে পারেন না। তাই এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ নেই বললেই চলে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী, দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে রেসারিস, হানাহানি, মারামারি ও পাল্টাপাল্টি শোডাউন অব্যাহত রয়েছে। আর এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাদের দাবি এ বিরোধ না মিটলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। তবে দৌলতপুর উপজেলা

বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক থাকলেও দলের মধ্যে তেমন কোনো বিভাজন নেই। দলের কোন কর্মকান্ড না থাকলেও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার নেতৃত্বে দলের নেতা-কর্মীরা সংগঠিত রয়েছে। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আলতাব হোসেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হোন। সেক্ষেত্রে সেও মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের অভিমত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপর বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের প্রিয়ভাজন হিসেবে পরিচিত। তবে তার পরিবারের লোকজনের কর্মকান্ডে কিছুটা বেকায়দায় আছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, দলের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ থাকায় তার নামে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। তিনি মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ এবার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরা এই নেতা মনোয়নন পেতে কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। আফাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু কৌশলে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়। তবে দলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী তার পক্ষে বলে তিনি দাবি করেন।

দৌলতপুর আওয়ামীলীগের এই দুই নেতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ভাই আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য রশিদুল আলম ও এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা এ্যাড. সরোয়ার জাহান বাদশাও মনোনয় পেতে পারেন এমন প্রচার প্রচারনা রয়েছে এলাকায়।

দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে দলের একক প্রার্থী মনে করেন বেশির ভাগ নেতা-কর্মী। যদিও ওয়ান-ইলেভেনের পর রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। যার কারনে এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল দৌলতপুর বিএনপি’র প্রদিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাব হোসেনকে। অবশ্য বর্তমানে সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা দলীয় কর্মকান্ডের বাইরে থাকলেও তিনিই দৌলতপুর বিএনপির হাল ধরে রেখেছেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারলেও তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রেখেছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তার বিকল্প কাউকে ভাবছেন না। রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার পাশাপাশি দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল, আলহাজ্ব আলতাব হোসেন, এ্যাড. রমজান আলী সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

বড় দুই দলের বাইরে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কোরবান আলীর ছেলে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ্রিয়ার জামিল জুয়েল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে লক্ষ্যে তিনি গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়াও দৌলতপুর উপজেলা জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন এ আসনে নির্বাচন করবেন। যার কারনে তিনি এলাকায় গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমান সকারের ১৪ দলীয় জোট থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ উপজেলায় জামায়াতের তেমন উল্লেখযোগ্য ভোট নেই বললেই চলে।

সর্বপরি অবাঁধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সেক্ষেত্রে নৌকার প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ হওয়ায় বিএনপি প্রার্থী অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *